এন্টিম্যাটার ( Antimatter ) বা প্রতিপদার্থ হলাে সেই বস্তু যা কোন পদার্থের সংস্পর্শে এলে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয় । যে কোনাে পদার্থই আবার অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে তৈরী । সেই হিসেবেও এন্টিম্যাটার ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে তৈরী।
তত্ত্ব বলছে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় সমান পরিমাণ পদার্থ ও প্রতিপদার্থ তৈরি হয়েছিল। সমান পরিমাণ তৈরি হলেই তবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সমীকরণ ঠিকভাবে মেলে। পদার্থ ও প্রতিপদার্থ যখন পরস্পরের সংস্পর্শে আসে তখন তারা ধ্বংস করে ফেলে একে অন্যকে । সে হিসেবে আমাদের নিজেদের এবং আমাদের চারপাশের কোনোকিছুই অস্তিত্ববান থাকার কথা নয়। কিন্তু আমরা অস্তিত্ববান আছি।
কেন এমনটা ঘটেছে সেটি নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা আছে। এদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সমর্থিত ব্যাখ্যাটি এমন যে, পদার্থ ও প্রতিপদার্থ সমান পরিমাণেই সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ধ্বংসের সময় সামান্য পরিমাণ পদার্থের পরমাণু টিকে গিয়েছিল। আজকে আমরা যে বিশাল জগৎ দেখতে পাই তা তৈরি হয়েছিল প্রতি বিলিয়ন জোড়ার মাঝে একটি একটি করে বেঁচে যাওয়া পদার্থের সমন্বয়ে। প্রতিপদার্থের বেলায় মাঝে মাঝে আমাদের সাধারণ পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে । সেরকম কিছু ব্যতিক্রমের কারণে টিকে গিয়েছিল মিলিয়নের মাঝে একটি পরমাণু।
১৮৯৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আর্থার শুস্টার প্রথম এন্টিম্যাটারের ধারণা দেন এবং এন্টিএটম বা প্রতি পরমাণুর অস্তিত্ব অনুমান করেন । তবে ১৯২৮ সালেই বিজ্ঞানী পল ডিরাক তার একটি গবেষণাপত্রে এন্টিম্যাটারের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন ।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত পদার্থ ও প্রতিপদার্থ বা এন্টিম্যাটারের কণা তৈরি হচ্ছে এবং সাথে সাথেই তারা একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলছে । এমনকি এরা আমাদের খাদ্য ও দেহের ভিতরেও তৈরি হয় ।

প্রতিকণারা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে তৈরি হলেও মানুষের কাছে তারা এখনো অধরা। মানুষ চাইলেই ইচ্ছেমতো প্রতিকণা কিংবা প্রতিপদার্থ তৈরি করতে পারে না। অনেক চেষ্টার পর যা-ই তৈরি হয় তার পরিমাণ খুবই নগণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবে যতগুলো অ্যান্টিপ্রোটন তৈরি করা হয়েছে তাদের সবগুলোকে একত্র করলে হবে মাত্র ১৫ ন্যানোগ্রাম ।
জার্মানির DESY-তে হয়েছে ২ ন্যানোগ্রাম।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী জিনিস এই এন্টিম্যাটার ; প্রতি 'গ্রাম' এর দাম প্রায় ৬২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
PET বা 'পজিট্রন এমিশন টমগ্রাফি' যন্ত্রে "পজিট্রন" এন্টিম্যাটার ব্যাবহার করা হয় । পজিট্রন এর পূর্ণরূপ হলো পজিটিভ ইলেকট্রন বা ধনাত্মক ইলেকট্রন ।
এছাড়া বিজ্ঞানীদের ধারণা এন্টিম্যাটার বা প্রটিপদার্থ ব্যাবহার করে প্রচুর শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব ।


তথ্যসূত্র :
বই - লুব্ধক