ব্ল্যাক বিয়ার্ড, যার আসল নাম এডওয়ার্ড টিইচ, ১৬৮০ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে জন্মগ্রহণ করেন । ইতিহাসের বিখ্যাত জলদস্যুদের মধ্যে একজন তিনি, পাশাপাশি আমেরিকান লোককাহিনীর একজন অতি পরিচিত ব্যাক্তিত্বও ছিলেন । তাকে ব্ল্যাকবিয়ার্ড নামটি দেওয়া হয়েছিল তার লম্বা কালো দাড়ি ও ভীতিকর চেহারার জন্য। লোক কাহিনীতে বলা হয়, তিনি তার বিখ্যাত দাড়িতে ঘষে আগুন ধরাতে পারতেন।

ব্ল্যাক বিয়ার্ড এর জীবন সম্পর্কে খুবই কম তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে । তিনি এডওয়ার্ড টিইচ ( কারো কারো মতে থ্যাচ বা থ্যাক ) নামেই বেশি পরিচিত । যদিও জলদস্যুরা সবসময় ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন , সে হিসেবে তার আসল নামটি হয়তো কখনো জানা যাবে না ।


ধারণা করা হয়, স্প্যানিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধের সময় (১৭০১-১৩) তিনি ব্রিটিশদের পক্ষে সক্রিয়  ছিলেন ।  ১৭১৬ সালের পর থেকে জলদস্যু হিসেবে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন । তখন তিনি একটি বন্দী ফরাসি বণিক জাহাজকে ৪০ বন্দুক বিশিষ্ট একটি বৃহৎ যুদ্ধজাহাজে পরিণত করেন । তিনি জাহাজটির নাম দেন "কুইন অ্যানি’স রিভেঞ্জ" । শীঘ্রই ভার্জিনিয়া এবং ক্যারোলিনা উপকূল ও ক্যারিবীয় সাগরে ত্রাসের জন্য ব্ল্যাক বিয়ার্ড কুখ্যাত হয়ে উঠেন । এরপর তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার কার্লিস্টোন বন্দরে দস্যুদের একটি জোট গঠন করেন। এখানকার অধিবাসীদের কাছ থেকে সাফল্যের সাথে মুক্তিপন আদায়ের পর তিনি তার কুইন অ্যানি’স রিভেঞ্জ নিয়ে উত্তর ক্যারোলিনার বিউফোর্টের কাছে একটি জলায় আটকে যান এবং সেখানে তাকে আটক করা হয় । বাথ শহরে রাজকীয় ক্ষমা পেলেও সমুদ্রের স্রোত আর রোমাঞ্চের টানে তিনি আবার জলদস্যুপনায় ফিরে যান এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন । 

বিষয়টি ভার্জিনিয়ার শাষক আলেক্সজেন্ডার স্পটস্‌উডের নজরে আসে। স্পটস্‌উড নাবিক ও সৈন্যদের সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠন করেন ব্ল্যাকবিয়ার্ডকে ধরতে অভিযান চালান । অবশেষে ২২ নভেম্বর ১৭১৮ সালে একটি হিংস্র যুদ্ধে লেফটেনান্ট রবার্ট ম্যানার্ডের নেতৃত্বে একটি ছোট নাবিক দলরে হাতে কুখ্যাত 'ব্ল্যাকবিয়ার্ড' ও তার জাহাজের কিছু কর্মী নিহত হন। পরে তার দেহ কেটে ফেলা হয় এবং তার জাহাজের তীরচিহ্নের শেষে তার মাথাটি সংযোজন করা হয় ।


চিত্র : কুইন অ্যানি’স রিভেঞ্জ